আমার জীবনে আর্বিতিত হওয়া বিভিন্ন অভিজ্ঞতার আলোকে “কথার কথা” নামে বিভিন্ন কথা নিয়ে একটি ধারাবাহিক কথামালা রচনার উদ্যোগ নিয়েছি। নিম্নে তারই একটি তুলনামূলক নমুনা উল্লেখ করা হলো।


মূল কথা:
“যাহা বলিব সত্য বলিব, সত্য বৈ মিথ্যা বলিব না। মহামান্য আদালত, কাঠগড়ার অপর পাশে বাদীপক্ষ আমার কেউ নন। আর আপনি যে ছেলে-মেয়ের ভরণ পোষণ দেয়ার কথা বলছেন, ঐ ছেলে-মেয়ের পিতা আমি নই। যে ছেলে-মেয়েকে আমি নিজের সন্তান মনে করি না, তাদের আমি ভরণ পোষণের খরচ দেবো কেন? ঐ রকম ছেলে-মেয়ে রাস্তা ঘাটে পাওয়া যায়। হুজুর, আমি চাকুরীর কারণে বাড়িতে থাকি না, দুই তিন মাস পর বাড়িতে আসি কি আসি না, তার কোন ঠিক নাই। আমার অনুপস্থিতিতে ঐ চরিত্রহীন মহিলা কাকে দিয়ে ঐ সন্তান দুটো জন্মাইছে তা আমি বলতে পারি না, ঐ ছেলে-মেয়ে যেহেতু আমার না, তাই আমি তার ভরণ পোষণ বাবদ কোন টাকা পয়সা দিতে পারবো না।”

কথাটি এমনও হতে পারতো-
“যাহা বলিব সত্য বলিব, সত্য বৈ মিথ্যা বলিব না এবং সত্যকে অস্বীকার করিব না। মহামান্য আদালত, কাঠগড়ার অপর পাশে বাদী হিসেবে যে মহিলা এবং দুই ছেলে মেয়েকে দেখতে পাচ্ছেন, তারা আমার পরিবার। আপনি যে ছেলে-মেয়ের ভরণ পোষণ দেয়ার কথা বলছেন, তারা আমারই সন্তান। রাস্তা ঘাটে ওদের বয়সী কোন ছেলে-মেয়েকে দেখলেই ওদের কথা আমার মনে পরে। হুজুর, আমি চাকুরীর কারণে বাড়িতে থাকি না, স্ত্রী সন্তানের মুখ দেখতে দুই তিন মাস পরপর ব্যকুল হয়ে বাড়িতে আসি। তবে আমার অনুপস্থিতিতে আমার স্ত্রী যেভাবে আমার সংন্তান এবং সংসারের খেয়াল রাখে তা দেখে আমি মুগ্ধ, আবিভূত। আমার স্ত্রী এবং সন্তানদের ভরণ পোষণের খরচ দেয়া এবং তাদের প্রতি যত্নবান হওয়া, একজন স্বামী এবং পিতা হিসেবে আমার নৈতিক দ্বায়িত্ব।” 

পুনঃশ্চ, মূল কথাগুলোর বক্তা কে ছিলো তা এখানে আলোচ্য বিষয নয়, মূল কথার ভাবার্থই এখানে মূখ্য আলোচ্য বিষয়। তবে কথাগুলোকে আসমানী কথা বা আকাশ কুসুম কল্পনা ভেবে এড়িয়ে যাওয়াই আপনার জন্য উচিত হবে। কারণ কথাগুলো লেখার সময় আমি বিমানে অবস্থান করছিলাম, এবং বিমান তখন আকাশে উড্ডীয়মান ছিলো।

আরিফুর রহমান
০২.০৯.২০১৯
পোল্যান্ড - নরওয়ে আকাশ পথে